আধ্যাত্মিক
দৈনিক বাণী
“অনন্যশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে — যে ভক্তরা অন্য চিন্তা ছেড়ে কেবল আমারই চিন্তা করে আমার উপাসনা করেন, তাদের সেই চিন্তায় আমি বহন করি — ভগবান এই প্রতিশ্রুতি দেন।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৯.২২
“সত্যমেব জয়তে — সত্যই চূড়ান্ত জয়লাভ করে, মিথ্যা নয়।”
— মুণ্ডক উপনিষদ ৩.১.৬
“বসুধৈব কুটুম্বকম্ — সমগ্র পৃথিবীই একটি পরিবার, এই ভাবনাই আমাদের ভেদাভেদ ভুলিয়ে ঐক্যের পথ দেখায়।”
— মহোপনিষদ
“অহিংসা পরমো ধর্মঃ — অহিংসাই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম, যা মহাভারতে বারংবার গুরুত্ব সহকারে উল্লিখিত হয়েছে।”
— মহাভারত
“কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন — কর্মেই তোমার অধিকার, ফলের প্রতি কখনও নয়। ফলের চিন্তা না করে কর্তব্যপালনেই মনোনিবেশ করার এই উপদেশ গীতার সবচেয়ে পরিচিত শিক্ষা।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ২.৪৭
“ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিৎ — আত্মার কখনও জন্ম হয় না, মৃত্যুও হয় না। দেহের বিনাশে আত্মা বিনষ্ট হয় না — এই উপলব্ধিই মৃত্যুভয় জয় করার পথ দেখায়।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ২.২০
“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি — যখনই ধর্মের গ্লানি ঘটে, তখনই ভগবান অবতীর্ণ হন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই আশ্বাসবাণী যুগে যুগে ভক্তদের অনুপ্রাণিত করেছে।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৪.৭
“ওঁ সহনাববতু সহনৌ ভুনক্তু — আমাদের উভয়কে (গুরু ও শিষ্যকে) একসাথে রক্ষা করুন, একসাথে পালন করুন, একসাথে আমরা শক্তি অর্জন করি — বৈদিক শান্তিমন্ত্রের এই অংশ সহযোগিতা ও সম্মিলিত শিক্ষার আদর্শ তুলে ধরে।”
— কঠোপনিষদ শান্তিমন্ত্র
“অসতো মা সদ্গময় তমসো মা জ্যোতির্গময় মৃত্যোর্মামৃতং গময় — মিথ্যা থেকে সত্যে, অন্ধকার থেকে আলোতে, মৃত্যু থেকে অমৃতত্বে নিয়ে যাও — এই বিখ্যাত শান্তিমন্ত্র ব্রাহ্মণতন্ত্রের শিক্ষার্থীর আত্মোন্নতির প্রার্থনা।”
— বৃহদারণ্যক উপনিষদ ১.৩.২৮
“সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম — যা কিছু আছে, এই সমগ্র জগৎই ব্রহ্ম। তৃতীয়-চতুর্থ অধ্যায়ের এই ঘোষণা উপনিষদের অদ্বৈত ভাবনার মূল সুর।”
— ছান্দোগ্য উপনিষদ ৩.১৪.১
“অহং ব্রহ্মাস্মি — 'আমিই ব্রহ্ম'। এই মহাবাক্য আত্মার সঙ্গে ব্রহ্মের অভিন্নতা ঘোষণা করে, যা উপনিষদীয় জ্ঞানের চূড়ান্ত প্রাপ্তি।”
— বৃহদারণ্যক উপনিষদ ১.৪.১০
“তত্ত্বমসি — 'সেই তুমিই'। পিতা-গুরু উদ্দালকের কাছে শ্বেতকেতুকে বারবার এই মহাবাক্য দিয়ে বোঝানো হয় যে জীবাত্মা ও পরমাত্মা একই।”
— ছান্দোগ্য উপনিষদ ৬.৮.৭
“মাতৃদেবো ভব, পিতৃদেবো ভব, আচার্যদেবো ভব, অতিথিদেবো ভব — মাতা, পিতা, আচার্য ও অতিথিকে দেবতার মতো শ্রদ্ধা কর — তিত্তিরীয় উপনিষদের এই উপদেশ গুরু-জনা ও আতিথেয়তার আদর্শ ধারণ করে।”
— তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.১১.২
“সত্যং বদ, ধর্মং চর — সত্য বলো, ধর্ম আচরণ করো। স্নাতককে বিদায়বেলায় দেওয়া এই উপদেশ চরিত্র ও নৈতিকতার ভিত্তি স্থাপন করে।”
— তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.১১.১
“ঈশাবাস্যমিদং সর্বং যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগৎ — জগতে যা কিছু চঞ্চল, সমস্তই ঈশ্বরে পরিব্যাপ্ত। ঈশোপনিষদের এই প্রথম শ্লোকই সংসারে বৈরাগ্য ও দায়িত্বের শিক্ষা দেয়।”
— ঈশোপনিষদ ১
“ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ — 'শান্তি, শান্তি, শান্তি'। তিনটি শান্তি ধ্বনি ত্রিলোকের (ভূলোক, ভুবর্লোক, স্বর্লোক) এবং ভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক তাপের প্রশান্তি কামনা করে।”
— উপনিষদ শান্তিপাঠ
“ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ — গায়ত্রী মন্ত্র সূর্য-দেবতা সবিতার বরেণ্য ভর্গের ধ্যান এবং মেধা-প্রচোদনার প্রার্থনা; ঋগ্বেদের এই মন্ত্র আজও সন্ধ্যায় জপ করা হয়।”
— ঋগ্বেদ ৩.৬২.১০
“বিদ্যা দদাতি বিনয়ং বিনয়াদ্ যাতি পাত্রতম্ — বিদ্যা বিনয় দেয়, বিনয় থেকে যোগ্যতা আসে। জ্ঞানকে সৌজন্যে রূপান্তরিত করার এই নীতিবাক্য সুভাষিত সাহিত্যের আদর্শ বাণী।”
— সুভাষিত
“পরোপকারার্থমিদং শরীরম্ — এই শরীর পরোপকারের জন্যই। আত্মকেন্দ্রিকতা ছেড়ে পরের মঙ্গলে দেহ-মন নিয়োগ করার এই শিক্ষা ভারতীয় নীতিদর্শনের মূলস্বর।”
— যোগবাশিষ্ঠ (উপদেশ)
“উদ্ধরেদাত্মনাত্মানং নাত্মানমবসাদয়েৎ — নিজের দ্বারা নিজেকে উদ্ধার করো, নিজেকে অধোগত করো না; আত্মাই আত্মার বন্ধু, আত্মাই আত্মার শত্রু।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৬.৫
“স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ — নিজের ধর্মে মৃত্যুও শ্রেয়, পরধর্ম ভয়ানক। নিজের স্বভাবজাত কর্তব্য পালনই শ্রেষ্ঠ পথ — গীতার এই শিক্ষা আত্মপরিচয় ও কর্তব্যের গুরুত্ব বোঝায়।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৩.৩৫
“ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে — এই জগতে জ্ঞানের সমান পবিত্রকারী আর কিছুই নেই। আত্মজ্ঞানেরই সর্বোচ্চ পবিত্রতা আছে বলে গীতা ঘোষণা করে।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৪.৩৮
“শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং — শ্রদ্ধাবান ব্যক্তিই জ্ঞান লাভ করেন। গীতা অনুসারে শ্রদ্ধা ছাড়া জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়, কারণ শ্রদ্ধাই জ্ঞানের প্রথম ভিত্তি।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৪.৩৯
“সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ — সব ধর্ম ছেড়ে একমাত্র আমারই শরণাগত হও; আমি তোমাকে সব পাপ থেকে মুক্ত করব। গীতার এই শেষতম উপদেশই শরণাগতির চরম শিক্ষা।”
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৮.৬৬
“যতো ধর্মস্ততো জয়ঃ — যেখানে ধর্ম, সেখানে জয়। ধর্মের পথে থাকলেই জয় নিশ্চিত — এই নীতিবাক্য মহাভারতের বিজয়ধর্মের মূল সুর।”
— মহাভারত
“ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ — ধর্মকে রক্ষা করলে ধর্মই রক্ষা করে; ধর্মকে হত্যা করলে ধর্মই নিহত করে। ন্যায়-রক্ষার প্রতিশোধ-নিয়ম মনু-স্মৃতির পরিচিত নীতি।”
— মনু-স্মৃতি ৮.১৫
“অন্নং ব্রহ্মেতি ব্যজানাত্ — 'অন্নই ব্রহ্ম'। তিত্তিরীয় উপনিষদে অন্নকে ব্রহ্মের প্রকাশ বলার এই শিক্ষা জীবনের মৌলিক প্রয়োজনকে আধ্যাত্মিক মর্যাদা দেয়।”
— তৈত্তিরীয় উপনিষদ ৩.২
“প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম — 'চৈতন্যই ব্রহ্ম'। ঐতরেয় উপনিষদের এই মহাবাক্য জ্ঞান-চৈতন্যকেই পরম সত্যের স্বরূপ বলে প্রতিষ্ঠিত করে।”
— ঐতরেয় উপনিষদ ৩.৩
“সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ — হাজার মস্তক, হাজার চক্ষু ও হাজার পাদবিশিষ্ট সেই পুরুষ; পুরুষসূক্ত এই মহাবিশ্বব্যাপী পরমপুরুষের বর্ণনায় ঋগ্বেদের শ্রেষ্ঠ স্তোত্র।”
— ঋগ্বেদ ১০.৯০
“সর্বং পরবশং দুঃখং সর্বমাত্মবশং সুখম্ — পরের অধীনে সবই দুঃখ, নিজের অধীনে সবই সুখ। আত্মনিয়ন্ত্রণকেই সুখের একমাত্র উপায় বলে এই সুভাষিত চরিত্রগঠনের শিক্ষা দেয়.”
— সুভাষিত